ভোজ্যতেলে শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ

ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান (যুগ্ম সচিব) একেএম মকসুদুল আরেফীন স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩১ মার্চ শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১০ মার্চ বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা মূসক ও শুল্ক-করাদি রেয়াতসংক্রান্ত এসআরওর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ট্যারিফ কমিশনে আবেদন করেন।

কমিশন ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সময়ে অপরিশোধতি সয়াবিন ও পাম অয়েলের আন্তর্জাতিক বাজারদরের প্রবণতা পর্যালোচনা করে। এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের এফওবি মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৪ দশমিক ৭ মার্কিন ডলার। প্রতি টন আরবিডি পাম অয়েলের মূল্য ১ হাজার ৬৩ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার। বর্তমানে (১৩ মার্চ) প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের এফওবি মূল্য দাঁড়ায় ৯৭৬ দশমিক ২১ মার্কিন ডলার এবং আরবিডি পাম অয়েলের মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ১২৫ মার্কিন ডলার। সয়াবিন তেলের মূল্য কিছুটা কমলেও আরবিডি পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। ভোজ্যতেল হিসেবে দেশে আরবিডি পাম অয়েলের ব্যবহার প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ। সে হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের গড় মূল্য এখনো স্বাভাবিক হয়নি মর্মে ট্যারিফ কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

কমিশন বলছে, সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা ভোজ্যতেল হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। দেশে এ দুটো তেল আমদানিতে সয়াবিন ও পাম অয়েল অপেক্ষা অধিক হারে (সানফ্লাওয়ারের ক্ষেত্রে মোট শুল্কায়ন মূল্য ৩২ শতাংশ ও ক্যানোলা তেলের ক্ষেত্রে মোট শুল্কায়ন মূল্য ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ) শুল্কারোপ করায় স্থানীয় বাজারে পণ্য দুটোর আমদানি নিরুৎসাহিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্যানোলা ও সানফ্লাওয়ার তেলের মূল্য পাম ও সয়াবিন তেলের কাছাকাছি এবং এর ব্যবহার পরিপূরক। স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি, ভোক্তাদের স্বার্থে ও সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে এবং স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যে স্থিতিশীলতা আনতে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেল আমদানিতে একই রকম শুল্ক-কর আরোপ এবং পণ্য দুটোতে অনুরূপ প্রদত্ত শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ভোজ্যতেলের (সয়াবিন, পাম, সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা) মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ বাড়াতে গত ১৫ ডিসেম্বর জারি করা এনবিআরের এসআরওর মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলে স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকবে। এতে ভোক্তাসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে মর্মে কমিশন মনে করে। এছাড়া ভোজ্যতেলের বৈচিত্র্যকরণে সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেলের শুল্ক-করাদি সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো একই রকম করার জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছে ট্যারিফ কমিশন।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবরে এক এসআরওর মাধ্যমে ভোজ্যতেল (পরিশোধিত সয়াবিন তেল, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, অপরিশোধিত পাম অয়েল ও অন্যান্য পরিশোধিত তেল) আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত সব মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এবং দেশের বাজারে মূল্য সহনশীল রাখতে ১৯ নভেম্বর আমদানি পর্যায়ে আরোপিত মূসক ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যার মেয়াদ গত ১৫ ডিসেম্বর শেষ হয়।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলা ও রমজান মাসে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৫ ডিসেম্বর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন, পাম অয়েল এবং সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেল আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও শুল্ক-করাদি রেয়াত দেয়া হয়। এর মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আরও